Sunday, April 7, 2019

কোরআনের আলোকে যাকাতঃ

যাকাতের ব্যাপারে শরীয়ত অনুযায়ী চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সংক্ষিপ্ত প্রাথমিক উত্তর হাদীস ছাড়া শুধু কোরানের ভিত্তিতে শুরুতে পয়েন্ট করে দিলাম। এরপর প্রতিটি বিষয় কোরানের রেফারেন্স দিয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করেছি।

১. কোন কোন সম্পদে যাকাত দিতে হবে?
উত্তরঃ প্রয়োজনের অতিরিক্ত যেকোন সম্পদে।

২. সম্পদ কত পরিমাণে থাকলে যাকাত দিতে হবে?
উত্তরঃ প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকলে।

৩. কি হারে যাকাত দিতে হবে?
উত্তরঃ ২০% হারে। অথবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবটুকু।

৪. কোন ব্যক্তিদের যাকাত দিতে হবে?
উত্তরঃ ফকির, মিসকীন, এতীম-অসহায়, নিকটাত্মীয়, যাকাত আদায় কারী, দাস-মুক্তির জন্যে, ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। পুরোটা কোরান খুঁজলে আরও পাওয়া যেতে পারে।

কোরান অনুযায়ী যাকাত ২০% হওয়া উচিৎ। শুনেছি শিয়ারা নাকি তাদের হাদীস অনুযায়ী ২০% যাকাত দেয়। দেখা যাচ্ছে শিয়ারা এই ক্ষেত্রে সঠিক পথে আছে।

যাকাত আরবী শব্দ, এর অর্থ পবিত্রতা। কিন্তু শরীয়ত অযথাই এর অর্থ পরিবর্তন করে ২.৫% বাধ্যতামূলক দান হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। শব্দের প্রকৃত অর্থ ব্যবহার না করার এমন শরীয়তী উদাহরণ আরও অনেক আছে। তার মাঝে একটি এখানে প্রাসঙ্গিক ভাবেই উল্লেখ করতে হচ্ছেঃ

''গণি'' আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম। এর অর্থ ''ধনী'' বা ''সম্পদশালী''। এই শব্দের ভিন্ন রুপ হচ্ছে ''গণিমত'' যার অর্থ ''ধন'' বা ''সম্পদ'' (সূরা নিসা- ৪:৯৪)। কিন্তু শরীয়ত ''গণিমত'' মানে শুধুমাত্র ''যুদ্ধলব্ধ সম্পদ'' আখ্যায়িত করে। কোরানে যুদ্ধলদ্ধ সম্পদকে আনফাল বলা হয়েছে (সূরা আনফাল-৮:১)। আর যুদ্ধ ছাড়াই প্রাপ্ত শত্রুপক্ষের কোন সম্পদকে ফাই বলা হয়েছে (সূরা হাশর- ৫৯:৬)। যে সম্পদ ''আনফাল'' বা ''ফাই'' অথবা ''অন্য যেকোন উপায়ে প্রাপ্ত ধন সে সম্পদকে ''গণিমত'' বলা যায়।

আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে সবসময় রিজিক দেওয়ার কথা বলেছেন, কখনও বলেছেন, “ আমি যাকে খুশি বেহিসাব রিজিক দিয়ে থাকি (সুরা-ইমরান-৩:২৭)। অনেক জায়গায় বলেছেন, আমি রিজিক বৃদ্ধি করে দিই আবার কারো রিজিক সংকীর্ণ করি। আমি তাহাদিগকে যে রিজিক দেই তাহা থেকে ব্যয় করে (সুরা আল বাকারা-২:৩)। পৃথিবীতে খাওয়া-পরা এবং যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রীকে রিজিক বলা হয়, আর এই রিজিক যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয় তখন রিজিকের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশকে ধন বা গণিমা বলে। এই প্রয়োজনাতিরিক্ত রিজিকের মালিককে আমরা গণী বা ধনী বলি।

সুরা আনফালের ৪১নং আয়াতে বলা হয়েছে, আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গণিমত (প্রয়োজানাতিরিক্ত রিজিক) হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চামাংশ আল্লাহর জন্য এবং রসুলের জন্য ও নিকটাত্মীয়দের জন্য আর এতীম-অসহায় সহ অন্যান্যদের জন্য। আয়াতে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মত আমাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় খরচ মিটানোর পর আয়ের অতিরিক্ত অংশ থেকে একপঞ্চমাংশ (২০%) বায়তুল মালে অর্থাৎ ইসলামী কোষাগারে জমা হবে। যাকে বর্তমানে প্রচলিত যাকাত প্রদান করার সাথে তুলনা করা যায়।

সদকা (শরীয়ত এইখানে যাকাত অনুবাদ করে!) হল কেবল ফকির, মিসকীন, সদকা আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (সুরা তওবা-৯:৬০)।

আল্লাহ তায়ালার হুকুম অনুযায়ী ছদকার খরচের খাতসমূহ জাতীয় পর্যায়ে বিবেচনা করলে বিশাল এক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায় । জাতীয় পর্যায়ের পরিমাণ এবং সংগ্রহের ব্যাবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপকতা প্রকাশ পায়।

কি পরিমাণ ব্যায় করব তার উত্তরে বলা হয়েছে, যে পরিমাণ সহজ হয় (সুরা বাকারাহ-২:২১৯)। এছাড়াও কোরানে বলা আছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব কিছুই দান/ব্যয় করতে।

No comments:

Post a Comment